আমি ও আমার পরিবার

Please log in or register to like posts.
পোস্ট

লিখেছেনঃ     Mobarak Hossain

রচনা কালঃ ০৪/০৮/২০১৮

 

ফেসবুকে একটা পোস্ট নজরে আসছে সেটা দেখেই লিখলাম।

–ছোট বেলায় লুংগি পড়তে পারতাম না। সেজন্য লুংগি খুব কম পড়া হয়েছে। বেশীরভাগ সময় মা আর বড় ভাই পড়াই দিতো। নিজে পড়লে অসমান হতো আর একটু পরপর খুলে যেতো।

–জীবনে প্রথম ক্লাস এইটের সময় চট্রগ্রাম শহরে আসি। উদ্দেশ্য এইবার নিজের ঈদের শপিং নিজে করবো। প্রথমবার এসেই শহরের প্রেমে পড়ে গেলাম। দ্বিতীয়বার শহরে আসি দাখিল পরীক্ষা দিয়ে। প্রথমবার এসেই টানা তিনমাস শহরে ছিলাম। রেজাল্ট সহ মিষ্টি নিয়ে ৩ মাস পর বাড়ি যাই।

–ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্যে রচনা পড়তে গিয়ে দুটি শব্দ পেয়েছিলাম মেধাবী এবং অধ্যবসায়। আমার মধ্যে ক্লাস ৮ পর্যন্ত অধ্যবসায় অনুপস্থিত ছিলো। এটা ঠিক যে প্রয়োজনে পরীক্ষার আগে অধ্যবসায়ী হওয়ার চেষ্টা করতাম সেটাও যথসামান্য৷ আমি ক্লাসে বসেই পরের দিনের পড়া শিখে রাখতাম। যেদিন দুপুরে ভাত খাওয়া হইতোনা সেদিন ৪ টায় বাসায় ফিরতাম। বাসায় ফিরে মা বা বড় আপুকে ভাত দিতে বলতাম আর আমি পাঞ্জাবি পড়া অবস্থায় পরের দিনের পড়া শিখে নিতাম। উদ্দেশ্য হলো পড়া শেষ করে খেলাধুলা, টিভি আর গ্রামের দোকানে বাংলা মুভি দেখা। এমনো দিন গেছে স্যার বাকিদের পড়া নিতে নিতে আমি পড়া মুখস্থ করে নিছি। সেই মুখস্থবিদ্যা এখন আর নাই। আমার পড়ালেখার কোন দীর্ঘমেয়াদী টার্গেট ছিলোনা। পরের দিন স্যারের কাছে গিয়ে পড়া বলতে হবে এতোটুকু টার্গেট ছিলো।

–যখন ক্লাস নাইনে উঠি তখন সব চেঞ্জ হয়ে যায়। ভাইয়া বলেছিলো শহরে পড়তে হলে অনেকে ভালো রেজাল্ট করতে হয়৷ ক্লাস টেন এ একবার বলেছিলো এ প্লাস না পেলে শহরে ভালো স্কুলে পড়া যাবেনা। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম এ প্লাস কতো তে? আমাকে বলছে ৮০ তে৷ আমি সেদিন হাসছিলাম এইভেবে আমি তো ৯০ এর নিচে পাইনা। ভালো করে পড়লাম। পরীক্ষা দিলাম ভালো করে৷ অনেকটা নিশ্চিত ছিলাম রেজাল্ট নিয়ে৷ সে সময় থেকেই অধ্যবাসায়ের শুরু আর সাথে দীর্ঘমেয়াদী টার্গেট৷

–পরীক্ষা দেয়ার সাথে ভাইয়া শহরে নিয়ে গেলো। নিজের কাছেই রাখলো। থাকতাম লালখান বাজার ইস্পাহানী মোড়৷ Aptech Computer Center এ ভর্তি হলাম। কম্পিউটার এর বেসিক এবং HTML দিয়ে web design শিখলাম সাথে ইংলিশ স্পিকিং এর শর্ট কোর্স৷ তিন মাস করলাম। এর পর রেজাল্ট দিলো। রেজাল্ট শেষে ভর্তির ডেট আসলো। দুইটা কলেজের ফর্ম নিলাম। চট্রগ্রাম ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এবং ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। পুরা ভর্তি পরীক্ষায় ভাইয়া পাশে ছিলো। আমি গ্রামে খুব extrovert ছিলাম। শহরে যাওয়ার পর কেনো জানি আমি অনেকবেশি introvert হয়ে গেলাম। কলেজ লাইফ শেষ করা পর্যন্ত introvert ই ছিলাম।

–ইস্পাহানীতে ভর্তি হলাম। টাই পড়তে জানতাম না। জুতার ফিতা লাগাতে জানতাম না। আগে কখনো স্যান্ডেল ছাড়া জুতা যে পড়িনাই৷ এবং শার্ট ইন করা জানতাম না। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে বড় ভাই নিয়ম করে জুতার ফিতা লাগাই দিতো, টাই পড়াই দিতো আর শার্ট ইন করাই দিতো। আমি এখনো টাই পড়া বা জুতার ফিতা বাধার ঐ একটা নিয়মই জানি। সেটা করেই চলেছি৷

–আমরা ভাই বোন সবাই শহরে পড়ালেখা করতে এসেছি৷ ৪ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার পর আর ছোট দুইজন মাধ্যমিকের ২-৩ বছর আগে। বাবার ইচ্ছা ছিলো সবাইকে সমানভাবে শিক্ষিত করে তুলবে। শুধু টাকা দিয়ে কি শিক্ষিত করে তোলা যায়? যতটাকা দরকার ছিলো বাবা কখনো সময়মত দিতে পারতোনা। বড় ভাই সব সামলাতো। আর বাবা টাকা পাঠালে সেটা ব্যালেন্স করতো। আমার বড় আপু সলিমা সিরাজ মহিলা মাদরাসায় পড়তো৷ আপুকে বাকিরা দুষ্টামি করে বলতো, আপুকে ওদের হিংসা হয় কারণ তার ভাই বোনেরা তার সাথে রেগুলার দেখা করতে আসতো।

–২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসি৷ এরপর আমি ঢাকায় আর বাকি সব চট্রগ্রাম। বাকি সবার পড়ালেখা, দৈনন্দিন চলাফেরা, ওদের বিয়েশাদী দেয়া সব কিছুতেই বড় ভাই৷ কিছু টাকা বাবা দিতো আর বাকি টাকা ভাইয়া লোন সহ নানানভাবে ম্যানেজ করতো। সেখানে আমার অবদান শূন্যের কোটায়। আমার অবদান ছিলো আমি কারো কাছ থেকে টাকা নিতাম না। নিজের খরচ নিজে চালাতাম। ছাত্র জীবনে ঈদের সময় হাল্কা অবদান রাখার সুযোগ হতো। ব্যস এতটুকুই। আর চাকরি পাওয়ার পর কিছুটা অবদান রাখা শুরু করলাম।

–আমার জীবনে তো অবশ্যই সাথে আমার বাকি ভাই বোনদের জীবনে আমার বড় ভাই খোদার এক বড় নিয়ামত হিসাবে দেখি। যাদের বাবা নেই তাদের ক্ষেত্রে বড় ভাইয়ের অবদান টা অন্য ভাই বোনের জীবনে বেশী দৃষ্টিগোচর হয়। আমাদের তো বাবা আছে তাই হয়তো বড় ভাইয়ের অবদানগুলো একটু গভীরভাবে তাকিয়ে দেখতে হয়।

–আমার বড় ভাইকে নিয়ে আমার যে গর্বের জায়গা সে জায়গা থেকে লিখতে থাকলে এই লেখা কোনদিনই শেষ হবেনা। মানুষ সব থেকে বেশী ভালোবাসে বাবা মাকে আর তারপর ভাই বোনদের৷ আমার ভাইয়ের ক্ষেত্রে উলটা।

–আমাদের সবার জীবনে বড় ভাই আছে। আমাদের ভালোদিনে আমরা যেনো আমাদের বড় ভাইদের অবদান কে ভুলে না যায়। বড় ভাইরা কখনো নিজে কি করছে তা আপনাকে বলবেনা৷ আপনাকে আপনার বিবেক দিয়ে পরিচালিত হতে হবে।

–বড় ভাই আর বড় বোন। প্রথম সন্তান মেয়ে হলে তার সাথে বাকি সন্তানদের দূরত্ব ৫ বছর হলে বড় বোন সেই ছোট ভাই বোনের জন্য মায়ের ভূমিকা পালন করে৷ ঠিক একিভাবে বড় ভাই বাবার ভূমিকা পালন করে৷ আমার বড় ভাই আমাদের সবার শিক্ষিত হওয়ার পেছনে বাবার ভূমিকা পালন করেছে। আর ছোট দুই ভাই বোনের জন্য আমার বড় বোন মায়ের ভূমিকা পালন করেছে। যৌথ পরিবার আসল পরিবার 🙂

–ফেসবুকে এতো কথা বলে ফেললাম বাট কখনো সামনে থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়নি। আপনজনদের ধন্যবাদ জানানো লাগেনা। বুকের গভীরে লালন করতে হয়। আসলে আমরা একে অপরের চোখে চোখ রেখে কথা বলিনা৷ এই একটা সম্পর্কে কেউ যদি আপনার কানে একটা নেগেটিভ শব্দ দেয় আপনার স্মৃতিতে হাজারটা পজিটিভ স্মৃতি মাথায় আসবে।

                                                                                                                                                                                                                                                      লিখেছেনঃ     Mobarak Hossain

                                                                                                                                                                                                                                                                          রচনা কালঃ ০৪/০৮/২০১৮

 

ফেসবুক কমেন্টস

Reactions

2
1
0
0
0
0
Already reacted for this post.

প্রতিক্রিয়া

2
1

মন্তব্য করুন