আব্বাস উদ্দীনঃভাওয়াইয়া গানের সম্রাট

Please log in or register to like posts.
পোস্ট
Abbasuddin

আব্বাস উদ্দীন – ভাওয়াইয়া গানের সম্রাটকে  কে নিয়ে আমাদের  আজকের  আয়োজন। আব্বাস উদ্দিনের  (২৭ অক্টোবর ১৯০১ – ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৯) জন্ম পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলায়। কুচবিহার জেলার অন্তর্গত তুফানগঞ্জ মহকুমার বলরাম্পুর গ্রামে তাঁর বেড়ে ওঠা ।  বাংলার একজন প্রখ্যাত শিল্পী তিনি , তাঁর গানের জন্যে লাখ ভক্তের হৃদয়ে তাঁর অবস্থান আজো অনড়। বাংলার প্রখ্যাত লোকসঙ্গীত গায়ক তিনি।

আব্বাস উদ্দীন আহমদের  পিতার নাম জাফর আলী আহমেদ । আব্বাসউদ্দীনের  বাবার পেশায় ছিলেন উকিল। আব্বাসউদ্দীনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় বলরামপুর স্কুলে।   প্রবেশিকা পাশ করেন ১৯১৯ সালে তুফাঙ্গঞ্জ স্কুল থেকে। তখনো হয়ত কেও জানতেন না কি মায়া লুকিয়ে আছে আব্বাসউদ্দীনের কন্ঠে।  পরবর্তিতে কুচবিহার কলেজ থেকে আইএ ও বি এ  পাশ করে আব্বাসউদ্দীন পা রাখেন সঙ্গীত জগতে । 

স্বদেশী গান, ইসলামি গান, আধুনিক গান, পল্লিগীতি  সবি ছিলো তাঁর কন্ঠে। ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠেন দেশ জুড়ে, প্রান ভরে গান গেয়ে মন ভরান সঙ্গীত অনুরাগিদের।  তবে তাকে সবাই মনে রাখবে তাঁর পল্লীগীতির জন্য। বাই বর্ন বিউটি বুঝি একেই বলে! না ছিলো কোন ওস্তাদ, না ছিলো কোন সঙ্গীতের স্কুলের তালিম,  নিজেই নিজের প্রতিভাকে শান দিয়ে সবার সামনে  তুলে ধরেন।

ধীরে ধীরে পল্লীগায়ের একজন গায়ক থেকে হয়ে উঠেন একজন  গানের সম্রাট । পরবর্তিতে তিনি অবশ্য কিছুদিন ওস্তাদ জমিরউদ্দিন খাঁর নিকট উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নেন। তাঁর প্রথম অর্জন, প্রথম সাফল্য আসে ভাওয়াইয়া গানের হাত ধরে । কুচবিহার ও রংপুরে ভাওয়াইয়া, ক্ষীরোল চটকা গেয়ে প্রথমজ সুনাম অর্জিত হয় তাঁর । শুধু কি এই?! তাঁর জারি,সারি, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি , বিচ্ছেদি, দেহতত্ত্ব ,  পালা গান, মর্সিয়া এখনো মন ভুলায় সুর প্রেমিদের।

আব্বাস উদ্দীন এর দরদ ভরা কন্ঠের পল্লীগীতি আজো অতুলনীয়।  এমনকি কাজী নজ্রুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, গোলাম মোস্তফা প্রমূখের ইসলামি ভাবধারার বিভিন্ন গানে কন্ঠ দিয়েছেন এই গুনি শিল্পী । এইচ এম ভি থেকে তিনি মুসলিম হিসেবে প্রথম গানের রেকর্ড বের করা শুরু করেন, তাঁর দেখা দেখি অনেক ভিন্ন ধর্মের শিল্পী মুসলিম নাম ধারন করেন। কারন একতাই আব্বাসউদ্দীনের রেকর্ড গুলো ছিলো বানিজ্যিক ভাবে খুবি সফল। ১৯৩১ থে ১৯৪৭ পর্যন্ত তিনি কলকাতায় বসবাস করেন।

তাঁর গান শুধু মন ভোলায়নি, দেশপ্রেমেও উজ্জীবিত করেছে মানুষদের।  ৮০ এর দশকে পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে মুসলিম জনাতাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন গান দিয়ে।

আব্বাসউদ্দীনের সন্তান ফেরদৌসি রহমান এবং মুস্তাফা জামান ও গান গেয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। আব্বাস উদ্দীন এর  বিখ্যাত গান ওকি গাড়িয়াল ভাই…  এখনো জনপ্রিয়, এমন অসংখ্য গানের স্রষ্টা তিনি। আব্বাসউদ্দীন ৪ টি বাংলা চচিত্রে অভিনয় করেন, সে সময় মুসলিম সমাজে চলচিত্রে অভিনয় করা বতিক্রম ছিলো। তাই ধারনা করা হয় তিনি আরো চলচিত্রে অভিনয় করলেও তা কেও জানেনা, বা তিনি জানান নি। তাঁর রচিত একমাত্র গ্রন্থ আমার শিল্পী জীবনের কথা(১৯৬০) ।

১৯৫৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর  পল্লিগানের সম্রাট, ভাওয়াইয়া গানের সম্রাট, মানুষের হ্রদয়ের সম্রাট পরলোক গমন করেন, পেছনে রেখে যান তাঁর দরদ ভরা কন্ঠের জারি, সারি, বিচ্ছেদি, ভাওয়াইয়া গান । 

ফেসবুক কমেন্টস

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

প্রতিক্রিয়া