হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

Please log in or register to like posts.
পোস্ট

মুসলিম উম্মাহ এর জাতীর পিতা ও ইসলামের একজন কালজয়ী নবী ও রাসুল এর নাম হযরত ইব্রাহিম (আঃ)।

৩১৫ জন রাসুলের মধ্যে উনি একজন। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) জন্মগ্রহণ করেছিলেন পশ্চিম ইরাকের নিকটবর্তী “বাইবেল” শহরে। মহান আল্লাহ পবিত্র আল-কোরআনে  ইব্রাহিম (আঃ) এর নামে একটি সুরা নাজিল করেছেন। সুরাটি পবিত্র কোরআনের ১৪ নাম্বার সুরাহ যার আয়াত সংখ্যা ৫২ এবং এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর নাম পুরা কুরআনে অনেকবার উল্লিখিত হয়েছে। ইসলাম ছাড়াও, তিনি ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়ে আছেন ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মে। এজন্য ইব্রাহিম(আঃ) কে সেমেটিক ধর্মগুলোর জনকও বলা হয়ে থাকে।  

হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর পিতার নাম ছিলেন আযর। তার স্ত্রীর নাম সারাহ ও হাজেরা। তার পুত্র ছিলেন: ইসমাইল ও ইসহাক,  মতান্তরে, তার ৬-১২জন পুত্র ছিলেন। তবে,ইসমাইল ও ইসহাকের বর্ণনাটিই ইতিহাসে পুত্র হিসেবে প্রসিদ্ধ। অন্যদের ব্যাপারে তেমন কোন ঐতিহাসিক উল্লেখের প্রমাণ পাওয়া যায় নি।

সৃষ্টিকর্তার প্রতি ইব্রাহিমের ছিল দৃঢ় বিশ্বাস। মহান আল্লাহর আদেশে তিনি তার পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর কাছে কুরবানী দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। ইসলামে ঈদুল আযহা পালিত হয় তার কার্যক্রম কে স্মরণ করে। মহান আল্লাহর আদেশে ইব্রাহিম (আঃ)- স্ত্রী বিবি হাজেরা ও শিশু পুত্র ইসমাঈলকে মক্কা নগরীতে রেখে এসেছিলেন।

তিনি যখন ভালোবাসার স্ত্রী,পুত্রকে মরুভূমির মাঝে ফেলে যাচ্ছিলেন তখন ওনার স্ত্রী পিছন থেকে কেন ফেলে যাচ্ছিলেন বা কোথায়,যাচ্ছিলেন কিচ্ছু জিজ্ঞেস করলেন না। শুধু একটা কথাই ওনার স্ত্রী পেছন থেকে জানতে চাইলেন, আপনি কি আমাদের এখানে আল্লাহ তায়ালার হুকুমে ফেলে যাচ্ছেন?প্রতি- উত্তরে ইব্রাহিম (আঃ) বলেছিলেন;হ্যা। তখন তার স্ত্রী বল্লেন;’যদি আল্লাহ এর হুকুমে আপনি আমাদের এখানে রেখে যাচ্ছেন তাহলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহই আমাদের হেফাজত করবেন।আপনি নিশ্চিন্তে যান প্রাণের স্বামি।’

মক্কা নগরীতে তখন লোকের বসবাস ছিল না। এমতাবস্থায় পুত্র ইসমাঈল ও বিবি হাজেরা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লেন।

তিনি আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখেন এবং মক্কার মরুভূমিতে থাকা শুরু করলেন। ধীরে ধীরে তাদের খাবার ও পানির সংকট দেখা দেয়। শিশুপুত্র ইসমাইল পানির তৃষ্ণার্থ এ যখন কান্না শুরু করেন, তখন বিবি হাজেরা এদিক থেকে ওদিকে ছুটোছুটি করতে থাকেন পানির উদ্দেশ্যে। এর মাঝে তিনি সাফা ও মারওয়া পাহাড় সাত পাক দেন। কিন্তু কোথাও পানির সন্ধান পেলেন না।পানির  সন্ধান না পাওয়ায় তিনি শিশু ইসমাইলের কাছে আসেন এবং দেখেন পুত্র ইসমাঈলের পায়ের আঘাতে তার পদতল থেকে ঝরণা ধারা প্রবাহিত হচ্ছে। বিবি হাজেরা অবাক হন, তিনি তাদের তৃষ্ণা মিটাই। ঝর্ণাধারার ফলে মক্কা নগরীতে ধীরে ধীরে লোকের বসবাস শুরু হয়। এই ঝর্ণাধারা পরবর্তীতে জমজম কূপের পরিণত হয়।ইব্রাহিম (আঃ) ও তার পুত্র ইসমাইল আল্লাহর আদেশে পবিত্র কাবা ঘর পুণর্নির্মাণ করেন। ইব্রাহিম ও তার শিশুপুত্র ইসমাইল ইসলামে কুরবানি ও হজ্জের বিধান চালু করেন যা বর্তমানের মুসলিমদের দ্বারাও পালিত হয়।  ইসলামের ইতিহাসে , ইসলামের শিক্ষায় , ইসলামী জীবনীতে আমাদের হযরত ইব্রাহিম (আ:) সম্পর্কে আরো অনেক কিছুই জানার আছে। 

ফেসবুক কমেন্টস

Reactions

2
2
0
0
0
0
Already reacted for this post.

প্রতিক্রিয়া

2
2

কে পছন্দ করেছে?