আবদুর রহমান ইবন ’আউফ (রা:)

Please log in or register to like posts.
পোস্ট
আবদুর রহমান ইবন ’আউফ (রা:)

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক, সাহাবিদের জীবনী পর্বে আমরা আজ আব্দুর রহমান ইবন ‘আউফ(রাঃ) এর সম্পর্কে জানবো।

জাহিলী যুগে আবদুর রহমান ইবন ’আউফকে সবাই ডাকতো ’আবদু ’আমর নামে(ইমাম বুখারী)। ইবন সা’দ তাঁর ‘তাবাকাতে’ উল্লেখ করেছেন, জাহিলী যুগে তাঁর নাম ছিল ’আবদু কা’বা। ইসলাম গ্রহণের পর রাসূল সা. তাঁর নাম রাখেন ‘আবদুর রহমান’। তাঁর মাতা-পিতা উভয়ে ছিলেন ‘যুহরা’ গোত্রের লোক। মাতার নাম শিফা বিনতু ’আউফ। দাদা ও নানা উভয়ের নাম ’আউফ। তিনি ছিলেন নবীজির থেকে প্রায় দশ বছরের ছোট, পক্ষান্তরে তেরো বছরের ছোট জানা যায়। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর নব্যুয়ত লাভের পর যে কয়েকজন সাহাবি ইসলাম গ্রহণ করেন, ইনি তাদের মধ্যে একজন। মক্কায় হিজরত কারীদের মধ্যে আব্দুর রহমান ছিলেন অন্যতম। হিজরতের সময় তিনি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। ইসলামী ভ্রাতৃত্বে হযরত সা’দের এ দৃঢ় আস্থা ও অতুলনীয় উদারতার দৃষ্টান্ত ইসলামী উম্মাহ তথা মানব জাতির ইতিহাসে বিরল।

 

এছাড়াও হযরত আবদুর রহমানের মহত্ব, আত্মনির্ভরতা ও নিজ পায়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্পও বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। মদিনায় হিজরতের পর আব্দুর রহমান একজন আনসারী মহিলাকে বিয়েও করেন বিয়ের পর তিনি একদিন রাসূলুল্লাহর সা. খিদমতে হাজির হলেন। তাঁর কাপড়ে হলুদের দাগ দেখে রাসূল সা. জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি বিয়ে করেছ?’ বললেন, ‘হাঁ’। জিজ্ঞেস করলেন কাকে?’ তিনি বললেন, ‘এক আনসারী মহিলাকে।’ রাসূল সা. জিজ্ঞেস করলেন, ‘মোহর কত নির্ধারণ করেছ?’ তিনি বললেন, ‘কিছু সোনা।’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ‘একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওয়ালিমা করে নাও।’পরবর্তী কালে তিনি তার ব্যবসায় অর্থ হতে ওয়ালিমা সেরে নেন। হযরত আবদুর রহমান ইবন ’আউফ বদর, উহুদ ও খন্দক সহ সকল যুদ্ধেই অংশগ্রহণ করেন এবং অত্যন্ত সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দেন। তিনি ও আরেক সাহাবি মিলে আবু জাহলকে কতল করেন। এর ফলে তার সাহস ও দৃঢ়তা দেখে সবাই মুগ্ধ হয়ে যায়। উহুদের যুদ্ধেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। এ যুদ্ধেও তিনি সাহস প্রদর্শন করেন। রাসূল সা. উহুদ পর্বতের এক কোণে আশ্রয় নিয়েছেন, উবাই ইবন খালফ এগিয়ে এলো আল্লাহর রাসূলকে শহীদ করার উদ্দেশ্যে। আবদুর রহমান তাকে জাহান্নামে পাঠাবার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হলে রাসূল সা. তাঁকে বাধা দেন। অতঃপর রাসূল সা. নিজেই হারিস ইবন সাম্মার নিকট থেকে বর্শা নিয়ে উবাই ইবন খালফের গর্দানে ছুড়ে মারেন। সামান্য আহত হয়ে সে চেঁচাতে চেঁচাতে পালিয়ে যায় এবং মক্কার পথে ‘সারফ’ নামক স্থানে নরক যাত্রা করে। উহদের যুদ্ধে আব্দুর রহমান সারা দেহে মোট একত্রিশটি আঘাত পান।তবুও তিনি তার সাহসীকতার প্রদর্শন করেন। মক্কা বিজয়ের পরও তিনি নবীজির সাথেই ছিলেন। চব্বিশ হিজরী সনের মুহাররম মাসে হযরত উসমান খলীফা নির্বাচিত হলে তিনি আবদুর রহমানকে আমীরুল হজ নিযুক্ত করেন। মুসলিম উম্মাহ সে বছরের হজটি তাঁরই নেতৃত্বে আদায় করে।

 

হযরত আবদুর রহমান আমরণ খলীফা উসমানের মজলিসে শূরার সদস্য ছিলেন।তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ দানের মাধ্যমে মুসলিম মজলিসকে এগিয়ে নিয়ে যেতেন। হযরত আবু বকর, উমার, উসমান রা- এ তিন খলীফার প্রত্যেকের নিকটই তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিশ্বাসী। ইবন সা’দের মতে, হযরত আবদুর রহমান হিঃ ৩২ সনে ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু,ইবন হাজারের মতে, তিনি ৭২ বছর জীবন লাভ করেছিলেন। ইবন হাজার এ কথাও বলেছেন, হযরত উসমান অথবা যুবাইর ইবনুল আওয়াম তাঁর জানাযার ইমামতি করেন এবং তাঁকে মদীনার বাকী’ গোরস্থানে দাফন করা হয়। গোরস্থান পর্যন্ত প্রখ্যাত সাহাবী হযরত সা’দ ইবন আবী ওয়াক্কাস তার লাশ বহনকারী দের মধ্যে অন্যতম। প্রিয় পাঠক, আমরা তার জীবনী থেকে জেনেছিলাম যে তিনি মদিনায় হিজরতের পর অনেক সম্পদের মালিক হন। কিন্তু তিনি লোভ লালসা থেকে দূরে ছিলেন। তার সম্পদের সমস্তই তিনি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেছেন। একবার রাসূল সা. একটি অভিযানের সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি সবার কাছে অর্থ সাহায্য চাইলেন, এ সময় আব্দুর রহমান তার গচ্ছিত দু হাজার দিনার দান করে দেন। হযরত আবদুর রহমান রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সরাসরি ও উমার রা. থেকে হাদীস বর্ণনাকারী ব্যক্তি। তাঁর থেকে তাঁর পুত্রগণ, যেমন ইবরাহীম, হুমায়েদ, উমার, মুসয়াব, আবু সালামা, তাঁর পৌত্র মিসওয়ার, ভাগ্নে মিসওয়ার ইবন মাখরামা এবং ইবন আব্বাস, ইবন উমার, জুবাইর, জাবির, আনাস, মালিক ইবন আওস রা. প্রমুখ সাহাবীগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ এই ইসলামের কান্ডারীকে জান্নাতবাসী করুন।

লেখাঃ সাঈদ আল রবি

তথ্যসুত্রঃ গুগল।

ফেসবুক কমেন্টস

Reactions

0
1
0
0
0
0
Already reacted for this post.

প্রতিক্রিয়া

1